1. shaikhalamin9367@gmail.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  2. admin@prothomsongbad.com : Farhan :
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

এ ঘুম কি কখনো ভাঙবে

  • নিউজ টাইম : রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৭৩ View

স্নিগ্ধ, সুন্দর, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি প্রীতি ভালোবাসা স্নেহ মমতা দায়িত্ববোধ, রাষ্ট্রীয় বিধিব্যবস্থা, মহান স্রষ্টার প্রতি অখণ্ড আনুগত্য- এসব বোধ যখন মানুষ খুইয়ে ফেলে তখন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির ভেতর মনুষ্যত্ব চেতনার লেশমাত্র আর অবশিষ্ট থাকে না। নীতিহীনতা স্বার্থান্ধতা শুচি শুভ্রতার গুণাবলি থেকে যোজন যোজন দূরে ছিটকে পড়ে তারা। ব্যক্তি, সমাজ, দেশ কোনো কিছুই তখন এদের কাছে নিরাপদ নয়। অঢেল দুধের মাঝে একফোঁটা গো-মূত্র নিক্ষিপ্ত হলে সুপেয় দুধ যেমন পানের অযোগ্য হয়ে যায় তেমনি ওপরের ওই মানুষরূপী অমানুষগুলোর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে যে বিষবাষ্প তাদের নাসারন্ধ্র থেকে বেরিয়ে আসে সেটা সমাজের বায়ুকে এতটা বিষাক্ত করে ফেলে যে তা শ্বাস নেয়ার মতো পর্যায়ে থাকে না। সেসব মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তিরা দশ হাতে সমাজ সংসারকে সংহার করতে উদ্যত হয়ে পড়ে। তারা এমন অপকর্ম করবেই বা না কেন? কোথাও তো কেউ নেই যে, এদের বাধাবিপত্তি সৃষ্টি করবে। এরা তখন নিজেদের ভাবে ‘অপ্রতিরোধ্য’।

এসব মানুষরূপীর বেশি শিকার হয় কিছু নির্বোধ মানুষ যারা বলতে গেলে অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে না; সাময়িক প্রাপ্তির কথা ভেবে নানা ঝুঁকি নিয়ে বসে। তাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য খোয়াতে হয় বিপুল অর্থ। এমন অজ্ঞানতার জের তাকে ভবিষ্যতে দীর্ঘ দিন বিপর্যস্ত করে রাখে। আমাদের সমাজে এমন সব ব্যক্তি যাতে ঠকবাজদের হাতে পড়ে সর্বস্বান্ত না হয় তা ঠেকানোর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা তো নেই। আমরা উল্লেখ করব, কত মানুষকে এমন কারণে বিপদগ্রস্ত হয়ে প্রচুর অর্থদণ্ড দিতে হয়েছে।

সমাজের হতচ্ছাড়া এই দুর্বৃত্তরা দেশকে কেবলই পেছনে টেনে নিয়ে চলেছে। মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য এরা এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যা কোনো আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; এ প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ব্যবস্থা’র সাইন বোর্ড নিয়ে এমন সব গর্হিত কাজ করে চলেছে সেটা প্রকৃত পক্ষে সব রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে অগ্রসর হচ্ছে এদের বেআইনি যত কার্যক্রম।

যখন লোকচক্ষুর অন্তরাল থেকে বেরিয়ে আসে, তখনই কেবল সাধারণ মানুষ জানতে বুঝতে পারে এরা কত ভয়ঙ্কর। শুধু কোনো নদী নয়, গোটা বঙ্গোপসাগরকে এই দুর্বৃত্তরা পেটের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এমনকি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিং ডং পর্যন্ত অনায়াসে হজম করে ফেলেছে। আরো হতভম্ব হতে হয়, এদের ক্ষুধার মাত্রাটা কত ব্যাপক যে ক্ষুধা দূর করতে দেশের প্রশাসন পর্যন্ত এদের সহায়তা করে। কেননা এমন সব অনিয়ম রুখতে যত বিধিব্যবস্থা রয়েছে সে সবের কোনো তোয়াক্কা না করে এবং প্রচলিত সকল ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্বার গতিতে সব মাড়িয়ে সম্মুখেই অগ্রসর হচ্ছে। আগেই বলেছি ন্যায়-অন্যায় কোনো বাছ বিচার না করে নিজের সম্পদ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এরা মত্ত। জনগণ জানে দেশের সম্পদের কৃচ্ছ্র কতটা। আর এই দুর্বৃত্তরা জানে, এরই ভেতর দিয়ে সম্পদ কোন অন্ধকার গলিপথ দিয়ে বের করে আনা যাবে। চোরাই অর্থ দেশে রাখা নিরাপদ নয় জেনে মুহূর্তেই তা পাচার করে দেয় দেশের বাইরে। এসব ব্যক্তি কখনো বৈধপথে হাঁটে না। তাদের সব কাজ চলে আঁধারে নীরবে নিভৃতে। তাছাড়া এসব কর্ম নিয়ে দেশের প্রশাসন বা সরকারি মেশিনারিজগুলো যেন পানির অতল গভীরে ডুব দিয়ে থাকে, কিছু যেন তাদের স্পর্শ না করে।

এদিকে আমরা অর্বাচীনরা কিছুদিন পরপরই শুনি, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। তবে খবর এতটুকুই, কারা কিভাবে অর্থ পাচার করল তা কিন্তু জানা যায় না। বোধ হয় কোনো দিনই জানা যাবে না। অর্থ পাচারের সাথে জড়িতদের চেহারা সুরত কেউ দেখেছে কি না তাও বলা যায় না। স¤প্রতি এক খবরে জানা গেছে, সুইস ব্যাংকে বহু বাংলাদেশীর বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রয়েছে। নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, কিছুকাল পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অর্থ বাইরে চলে গেছে। সেটা যেমন রহস্য, যা কখনো সাধারণ্যের কাছে উন্মোচিত হবে না, সুইজ ব্যাংকের কাহিনী কেউ জানবে না।

রাষ্ট্রযন্ত্রের যত কলকব্জা রয়েছে, তা যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তবে বুঝতে হবে, এর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং তার চালক হয় অদক্ষ বা অমনোযোগী; দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে নিষ্ঠার অভাব অপরিসীম। এসব কারণে অর্থ পাচারের মতো নানা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে থাকবেই। প্রতিটি দেশ বিধিবদ্ধ আইন কানুন অনুসরণ করে চলে। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যদি দুর্বলতা থাকে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনীহা, সুশাসন এবং শুদ্ধাচারের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখা দেয় তবে রাষ্ট্রে অনাচার অনিয়ম দুরাচারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বৃদ্ধি পায়, যা দেশের নাগরিকদের অধিকার খর্ব ও সম্পদের খেয়ানত হতে থাকবে। যেমন দেহে যখন অসুখ-বিসুখ দেখা দেয় যথাসময় তার নিরাময়ের ব্যবস্থা যদি না হয় তাহলে একপর্যায়ে আর কোনো প্রতিষেধকই কাজ করবে না। দেশে এখন ঘন ঘন এমন সব অপরাধ অপকর্ম ঘটছে। তাকে অবশ্যই অশনিসঙ্কেত বলতে হবে। এই সঙ্কেতের ভাব ভাষা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে বিলম্ব হলে মানুষ দেশ নিয়ে যে আশার আলোর ঝলকানি দেখছে তা হঠাৎ করেই নিভে যেতে পারে। তাতে যে অন্ধকারের সৃষ্টি হবে তখন মানুষের পক্ষে পথচলা দুরূহ হলেও মানুষরূপী হিংস্র হয়ে উঠবে; দানব তস্করদের জন্য জনপদগুলো হবে অভয়ারণ্য। শত হাতে অর্থ সম্পদ লুটেপুটে নিয়ে ছাই ভস্মই ফেলে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরও সংবাদ পড়ুন